Following

Sunday, May 12, 2019

নামাযের সুন্নত সমূহ। প্রথম পর্ব

Salat-sunnah namazer sunnat, al hadis, al Quran
সালাতের সুন্নাহ 

নামাযের সুন্নাত। 

#০১ মুআযযিনের সাথে সাথে আযানের শব্দ গুলো বলা এবং আযান এর শেষে নবীর উপর দুরুদ পাঠ করা। 

       আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “যখন তোমরা মুআযযিনের আযান শুনবে, তখন তোমরাও তার সাথে অনুরূপ বলবে। তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, তার উপর আল্লাহ্‌ দশটি রহমত বর্ষণ করেন।” (মুসলিম ৩৮৪)
নবীর উপর দরূদ পাঠ করে এই দু’আটি পড়বে,
অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! এই পূর্ণ আহবান এবং প্রতিষ্ঠিত নামাযের প্রভু, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্মান ও উচ্চতম মর্যাদা দান করো। তাঁকে মাক্কামি মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছিয়ে দাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছো।” (বুখারী) যে ব্যক্তি এই দুআটি পড়বে, তার জন্য নবীর সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০২ বেশী বেশী  মিসওয়াক করা


        আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমার উম্মতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ করতাম।” (বুখারী ৮৮৭, মুসলিম ২৫২)
** নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে, অযু করার সময়, মুখের গন্ধ পরিবর্তন হলে, কুরআন তেলাওয়াতের সময় এবং বাড়িতে প্রবেশ করে মিসওয়াক করাও সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০৩ অগ্রিম মসজিদে যাওয়া ।


        আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আর তারা যদি জানতো অগ্রীম নামাযে আসার ফযীলত কত বেশী, তাহলে অবশ্যই তারা আগেই (নামাযের জন্য) আসতো।” (বুখারী ৬১৫, মুসলিম ৪৩৭)


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০৪ পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।

        আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম) “আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেবো না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবাগণ বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহ্‌র রাসুল! তিনি বললেন, তা হচ্ছে, কষ্টের সময় সুন্দরভাবে অযু করা, মসজিদের দিকে বেশী বেশী পদচারণা করা এবং এক নামাযের পর অন্য নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। আর ইহা হলো জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়।” (মুসলিম ২৫১)


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০৫ শান্ত ও ধীরস্থির ভাবে নামাজের জন্য আসা। 


        আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যখন নামায আরম্ভ হয়ে যায়, তখন দৌড়ে তাতে শামিল হয়ো না। বরং ধীরস্থির ভাবে হেঁটে এসে তাতে শামিল হও। যতটুকু পাও পড়ে নাও এবং যতটুকু ছুটে যায় পরে পূরণ করে নাও।” (বুখারী ৯০৮, মুসলিম ৬০২)


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

#০৬ মসজিদে  প্রবেশ করার সময় ও বের হওয়ার সময় দোয়া পড়া।   

       আবূ হুমাইদ আস সায়েদী অথবা আবূ উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক’। (হে আল্লাহ্! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও।) আর যখন বের হয়, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফায-লীকা’। (হে আল্লাহ্! আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি।)” (মুসলিম ৭১৩)


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০৭ সুতরা সামনে রেখে নামাজ পড়া। 


      মুসা ইবনে তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মুসা ইবনে তালহা (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নিজের সামনে বাহনের জিনের পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু রেখে নিয়ে নামায পড়লে সামনে দিকে কেউ অতিক্রম করলে তার কোন পরোয়া করার দরকার নেই।” (মুসলিম ৪৯৯)


ফুটনোটঃ
*সুতরা হলো, যাকে সামনে করে বা সামনে রেখে মুসাল্লী নামায পড়ে। যেমন, দেওয়াল অথবা কোন কাঠ কিংবা অন্য কোন জিনিস। এর উচ্চতা হবে প্রায় ১২ ইঞ্চি (এক ফিট) পরিমাণ।

১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০৮ দুই সাজদার মাঝখানে ইক্ক'আর নিয়মে বসা। 


         আবূ যুবায়ের থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ত্বাউসকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, আমরা ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে দু’পায়ের উপর ইক্কআ’র নিয়মে বসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এটা সুন্নত। আমরা তাঁকে বললাম, এতে তো পায়ের প্রতি যুলুম করা হয়। তখন ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, বরং এটা তোমার নবীর সুন্নত। (মুসলিম ৫৩৬)


ফুটনোটঃ
*ইক্কআ হল, দু’পাকে খাড়া রেখে গোড়ালির উপর বসা। আর এটা হয় দুই সাজদার মধ্যের বৈঠকে।

১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#০৯  শেষ বৈঠক নিতম্ব  জমিনে লাগিয়ে বসা। 


        আবূ হুমায়েদ আসসায়েদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শেষ রাকাআ’তে বসতেন, তখন বাম পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে দিয়ে নিতম্বের উপর বসতেন।” (বুখারী ৮২৮)


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ১৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#১০ সালামের পূর্বে বেশি বেশি  দু'আ করা।


        আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে নামায পড়তাম---শেষে বললেন, অতঃপর (তাশাহহুদ ও দরূদের পর) প্রত্যেকে নিজের পছন্দমত দুআ বেছে নিয়ে দুআ করবে।” (বুখারী ৮৩৫)


১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

No comments:

Post a Comment