![]() |
| সালাতের সুন্নত |
নামাজের সুন্নত সমূহ।
#১১ সুন্নত নামাজ আদায় করা।
উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে, “কোন মুসলিম যখন আল্লাহ্র জন্য প্রতিদিন ফরয নামাযগুলো ছাড়াও আরো বার রাকআ’ত সুন্নত নামায পড়ে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতের একটি ঘর তৈরী করেন।” (মুসলিম ১৬৯৬)
ফুটনোটঃ
*সুন্নত নামায হলো বার রাকআ’ত যোহরের পূর্বে চার রাকআ’ত ও পরে দু’রাকআ’ত, মাগরিবের পরে দু’রাকআ’ত, ঈশার পর দু’রাকআত এবং ফজরের পূর্বে দু’রাকআত।
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১২ চাশতের নামাজ পড়া।
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আবূ যার (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় প্রভাব করে যে, তাকে তার প্রত্যেক জোড়াগুলোর পরিবর্তে সাদকাহ দেয়া লাগে। কাজেই প্রত্যেক বার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা সাদকাহ হিসেবে বিবেচিত হয়, প্রত্যেক বার ‘আল্লাহু আকবর’ বলা সাদকা হিসেবে গণ্য হয় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সাদকাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এসবের মুকাবিলায় চাশতের দু’রাকআ’ত নামাযই হবে যথেষ্ট”। (মুসলিম ৭২০)
ফুটনোটঃ
*এই নামাযের উত্তম সময় হলো, সূর্য পূর্ণ উদিত হওয়া থেকে ঠিক সূর্য মাথার উপরে আসা পর্যন্ত। এই নামাযের সংখ্যা হলো কমপক্ষে দু’রাকআ’ত আর বেশীর কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই।
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৩ রাতে উঠে নামাজ পড়া।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরয নামাযের পর কোন নামায সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো, রাতে উঠে নামায পড়া।’ (মুসলিম ১১৬৩)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৪ বিতর নামাজ পড়া।
ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামাযকে বিতর করে নাও।” (বুখারী ৯৯৮, মুসলিম ৭৫১)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৫ জুতো পড়ে নামাজ পড়া।
বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ
আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি জুতো পরে নামায পড়েছেন? তিনিবললেন, হ্যাঁ। (বুখারী ৩৮৬)
ফুটনোটঃ
** তবে জুতোদ্বয়ের পবিত্র থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৬ ক্কুবার নামাজ পড়া।
ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাহনে চড়ে ও পায়ে হেঁটে ক্বুবার মসজিদে এসে দু’রাকআ’ত নামায পড়েছেন। (বুখারী ১১৯৪, মুসলিম ১৩৯৯)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৭ ঘরে নফল নামাজ পড়া।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে নামায সমাপ্তি করে সে যেন তার নামাযের কিছু অংশ তার বাড়িতে পড়ার জন্য ছেড়ে রাখে। কারন, আল্লাহ্ বাড়িতে নামায পড়ার মধ্যে অনেক কল্যাণ রেখেছেন।” (মুসলিম ৭৭৮)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৮ ইস্তিখারা (কল্যাণ কামনার) নামাজ পড়া।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ঐভাবেই ইস্তিখারার নামায শিখাতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিখাতেন।” (বুখারী ১১৬৬)
এই নামাযের নিয়ম হলো, প্রথম দু’রাকআ’ত নামায আদায় করবে তারপর এই দুআটি পড়বে,
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বি’ইলমিকা, ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাযলিকাল ‘আযীম, ফা ইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়ালা আ’লামু, ওয়া আন্তা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব, আল্লাহুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা’আ-শী ওয়া আ’ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদিরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী ছুম্মা বারিকলী ফী-হ, ওয়া ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা’আ-শী ওয়া আক্বিবাতি আমরী ফাসরিফহু আ’ন্নী ওয়াছরিফনী ‘আনহু ওয়াক্বদির লিইয়াল খায়রা হাইছু কা-না ছুম্মা আরযিনী বিহী)
অথাৎ, হে আলাহ! আমি তোমার ইলমের মাধ্যমে তোমার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। তোমার ক্বুদরতের মাধ্যমে তোমার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। তুমি শক্তিধর আমি শক্তিহীন। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী, হে আল্লাহ্! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজটি উল্লেখ করবে) তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক কল্যাণকর হয়, তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও এবং উহাকে আমার জন্য সহজলভ্য করে দাও, অতঃপর উহাতে আমার জন্য বরকত দাও। আর যদি এই কাজটি তোমার জ্ঞানের আলোকে আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে অনিষ্টকর হয়, তবে উহাকে আমার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে দাও এবং আমাকেও উহা হতে দূরে সরিয়ে রাখো। তারপর কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য সে কল্যাণ নির্ধারিত করে দাও। অতঃপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখো।’’
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#১৯ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জায়নামাযেই বসে থাকা।
জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজর নামায পড়ে নিয়ে সূর্য ভালভাবে উঠা পর্যন্ত স্বীয় জায়নামাযেই বসে থাকতেন।’ (মুসলিম ৬৭০)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ২৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#২০ জুম'আর দিনে গোসল করা।
ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন জুমআ’র জন্য আসে, তখন সে যেন গোসল করে আসে।” (বুখারী ৮৭৭, মুসলিম ৮৪৬)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৩০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#২১ জুম'আর জন্য সকাল সকাল আসা।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “জুমআ’র দিনে মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করে আগে আসার ক্রমানুসারে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। আর যে সবার আগে আসে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি গাভী কুরবানী করে। এরপর আগমনকারী তার মত, যে একটি দুম্বা কুরবানী করে। তারপর যে আসে সে হলো, (আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে) মুরগী জবাইকারীর ন্যায়। এরপর যে আসে সে হলো, একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন উপস্থিত হয়, তখন তাঁরা (ফেরেশতারা) তাঁদের দফতর গুটিয়ে নিয়ে মনোযোগ সহকারে খুৎবা শুনতে লাগেন।” (বুখারী ৯২৯, মুসলিম ৮৫০)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৩১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#২২ জুম'আর দিনে দু'আ কবুল হওয়ার মুহূর্তটি খোঁজ করা।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমআ’র দিনের উল্লেখ করে বললেন, ‘এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে, কোন মুসলিম বান্দা যদি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নামায পড়া অবস্থায় আল্লাহ্ নিকট কোন কিছু চায়, তাহলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন। আর তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।’ (বুখারী ৯৩৫, মুসলিম ৮৫২)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৩২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#২৩ ঈদের মাঠে এক রাস্তায় আসা অন্য রাস্তায় যাওয়া।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন (ফেরার সময়) ভিন্ন পথে আসতেন। (বুখারী ৯৮৬)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৩৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#২৪ জানাযার নামাযে শরিফ হওয়া।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জানাযায় শরীক হয়ে নামায পড়া পর্যন্ত থাকে, সে এক ক্বীরাত নেকী পায়। আর যে তাতে শরীক হয়ে কবরস্থ করা পর্যন্ত থাকে, সে দু’ক্বীরাত নেকী পায়।' জিজ্ঞাসা করা হলো, দুই ক্বীরাত কি? বললেন, দু’টি বড় বড় পাহাড়ের মত।” (মুসলিম ৯৪৫)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৩৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
#২৫ কবর যিয়ারত করা।
বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম এখন তোমরা উহার যিয়ারত করো।” (মুসলিম ৯৭৭)
ফুটনোটঃ
*বিঃ দ্রঃ মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা হারাম। শায়্খ ইবনে বায (রাহঃ) এবং আরো অনেক আলেমগন এ ব্যাপারে ফাতওয়া দিয়েছেন।
১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৩৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
Facebook : Islamic Amol & Solution ইসলামিক আমল ও সমাধান
















